প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 23, 2026 ইং
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়-এ ফারুকীর ১১০ কোটির প্রকল্পে অনিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী–কে ঘিরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একটি বড় প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট খাতের একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নেওয়া একটি জাদুঘর নির্মাণ প্রকল্পে সরকারি অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা মানা হয়নি।
‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ প্রকল্পে ব্যয়পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রায় ১১০ কোটি টাকার ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ নির্মাণ প্রকল্প। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রচলিত উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি অনুসরণ না করে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কাজ দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি ক্রয়বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বড় অঙ্কের প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন করা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।
ঘনিষ্ঠদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ
কিছু অভিযোগকারী দাবি করেছেন, উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রাজধানীর একটি বাণিজ্যিক ঠিকানায় নিবন্ধিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম সামনে এসেছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে উপদেষ্টা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর উদ্বেগ
প্রকল্পটির ব্যয় ও ক্রয়পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, বড় অঙ্কের সরকারি প্রকল্পে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি গ্রহণ করলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
টিআইবি’র মতে, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া কাজ দেওয়া হলে দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়ে এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
সরকারের অবস্থান প্রত্যাশিত
অভিযোগগুলো নিয়ে এখনো সরকার বা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, প্রকল্পটির আর্থিক ও প্রশাসনিক দিক নিয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা এলে বিতর্কের অবসান হতে পারে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও নাগরিক সমাজে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ BangladeshInsights.com